মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
নজিপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ‘নিসচা’র মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চাটখিলে পিকআপ ভ্যান চাপায় এক নারীর মৃত্যু কাজী নাজমুল হোসেন তাপস কি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন? নওগাঁয় বিচার বিভাগ ও জেলা পুলিশের বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গোয়াইনঘাটে ধানের শীষের পক্ষে ঘরে ঘরে গণসংযোগ নাসিরনগরে মোবাইল কোর্টের অভিযান : চেয়ারম্যান, মেম্বারের সিলমোহর উদ্ধার, একজনকে জরিমানা নওগাঁয় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মা ও মেয়ের বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর ‘বদলে গেল’ কনে, অতঃপর… মান্দায় পৈত্রিক ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষ, তিনজন আহত ধর্মপাশায় ইসলামী আন্দোলনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই পাঁচ শতাধিক ঘর বাউফল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হলেন তসলিম তালুকদার লালমনিরহাটে ডিবি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার ডিউক অব এডিনবার্গের গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেলেন চবি’র পাঁচ শিক্ষার্থী কলাপাড়ায় এক রাতে তিন বাড়িতে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারের ১০৬ বন্দির ভোট দেওয়ার আবেদন আমরা কোনো রাজনীতিক দলের তাঁবেদার নই আমরা একমাত্র আল্লাহ তাঁবেদার : ছারছিনা পীর জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পবিপ্রবিতে দোয়া ও আলোচনা সভা খুলনায় যৌথ বাহিনীর অভিযান : বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী আটক

ইইই অ্যালামনাই কমিটিতে ভাঙন, ২০ সদস্যের মধ্যে ১৬ জনের পদত্যাগ

আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অ্যালামনাই কমিটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ৫ জুন ২০২৫ তারিখে ইইই বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ২০ সদস্যবিশিষ্ট অ্যালামনাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর শুরুতে কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।

কমিটির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, প্রথম অ্যালামনাই প্রোগ্রাম আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সভাপতির অসহযোগিতার কারণে কোনো তারিখেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। প্রায় ৮ মাস সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অ্যালামনাইদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কমিটির সেক্রেটারিসহ মোট ১৬ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। এত বড় সাংগঠনিক সংকটের পরও সভাপতি কার্যত কোনো প্রতিক্রিয়া বা সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, কমিটি গঠনের পূর্বে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—২০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যদি ১১ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকেন বা পদত্যাগ করেন, তবে কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে অধিকাংশ প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই বর্তমান কমিটি বাতিল ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছেন।

অ্যালামনাই সংগঠন গঠনের প্রয়োজনীয়তার পেছনে একাধিক যৌক্তিক কারণও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ইইই বিভাগে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগে। বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু হয়নি। এছাড়া বিভাগীয় অ্যালামনাইরা কোথায় কর্মরত, কে কোন সেক্টরে কাজ করছেন—এ সংক্রান্ত কোনো কেন্দ্রীয় তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও, ইইই বিভাগে এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদাহরণ দেখা যায়নি।

এই সকল সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু সচেতন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ইইই অ্যালামনাই সংগঠন গড়ে উঠেছিল। তবে যে উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করছেন একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এমতাবস্থায়, ইইই বিভাগের অ্যালামনাইদের একটি বড় অংশ বর্তমান কমিটিকে কার্যত অকার্যকর ঘোষণা করে দ্রুত একটি নতুন, জবাবদিহিমূলক ও সক্রিয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে অ্যালামনাই কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

কমিটি থেকে পদত্যাগ করা এক সদস্য জানান, ‘কমিটি হয়েছে আট মাস হলো, কিন্তু কমিটির কেউ কাজ করছে না এবং আমরা কাজ করার প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছি না, এজন্য মূলত পদত্যাগ করেছি।’

পদত্যাগ করা অ্যালামনাই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘কমিটি হয়েছে আট মাস হলো, কিন্তু সবার জন্য আমি কিছু করতে পারিনি। তারপর আমি নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেই পদত্যাগ করেছি। মাত্র তো আট মাস হয়েছে, খুব দ্রুত যদি অন্য কেউ আসে, তারা যদি কাজ করে, তাহলে হয়তো ভালো হবে। ভবিষ্যতে আমি অন্য কোনো অ্যালামনাই কমিটির সদস্য হয়ে বা সদস্য না হয়ে আমি কাজ করার চেষ্টা করবো।’

অ্যালামনাই কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘তারা কেন পদত্যাগ করেছে আমি তো জানি না। আর আমার বরাবর কোনো লিখিত আবেদন আসেনি। এই ব্যাপারে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না।’

এ বিষয়ে ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আলী আজগর বলেন, ‘আমি কিছুদিন ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সবার সাথে কথা বলে জানাতে পারবো।’

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩